:

সন্তানের অনলাইন গেমসে আসক্তি কমানোর উপায়

top-news
https://songeetbd.com/public/frontend/img/post-add/add.jpg


বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে শহরসহ দেশের  প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। শিশু, কিশোর-কিশোরীরা ঝুকে পড়েছে অনলাইন গেমসে। অধিকাংশ ভিডিও গেমস যেমন- পাবজি, ফ্রি-ফায়ার, মডার্ন কমব্যাট এগুলোর কনটেন্ট যুদ্ধ, সংঘাত রক্তপাত নিয়ে। এগুলো কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশে হুমকি স্বরূপ।

সারাদিন গেমস নিয়ে ব্যস্ত, মা–বাবার সঙ্গে কোনো জায়গায় যেতে চায় না। ডিজিটাল পর্দার গেম ছাড়া আর কোনো কিছুতে আগ্রহ নেই। বাসায় কয়েক মুহূর্তের জন্য ওয়াই–ফাই বন্ধ থাকলে উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। অস্থির হয়ে যায়, হয়তো নেটের অফিসকে গালমন্দ শুরু করে দেয় আপনার বা আপনার প্রতিবেশী কোনো শিশু।

মোবাইল অনলাইন গেমসে শুধু-শিশু কিশোর না, আসক্তিতে পড়েছে বড়রাও।

অনেক শিশু অনলাইন গেমসের প্রতি এতটাই আসক্তি যে, তাকে খেলতে না দেওয়া হলে প্রচণ্ড রেগে যায়, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং মাঝে মাঝে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

মূলত সন্তানদের শান্ত রাখতে কিছু বাবা মায়েরা সন্তানদের মোবাইল চালাতে দেন। এভাবেই তারা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, ইদানিং বাবা মায়েরাও মোবাইল ফোনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সাইরা মাতিন জানান, শিশুদের অনলাইন গেমের আসক্তি তাদেরকে পড়াশুনা বিমুখ করে তুলছে। তাদের মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কখন অনলাইন গেমসে আসক্তি বলা যায়:

দিনের শুরুতেই গেমস খেলার তিব্র আগ্রহ। পড়াশুনার প্রতি অনিহা, স্কুল কলেজে যেতে না চাওয়া। বিনোদনের উৎস বলতে অনলাইন গেমসকে বুঝানো  গেমসে ব্যাঘাত ঘটলে উগ্র ও অস্বাভাবিক আচরন করা।

এছাড়া সামাজিকতা কমে যাবে। কারও সঙ্গে মিশবে না। নিজেকে গুটিয়ে রাখবে। খাওয়া দাওয়া ও ঘুমে অনিহা ইত্যাদি। বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকবে। সামাজিক সম্পর্কগুলোর মূল্য কমতে থাকবে।

প্রতিরোধের উপায়:

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শিশুকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিন। সন্তানদের একটি রুটিনের মধ্যে আনুন, যাতে নিয়মগুলো পালন করে। তার দিকে খেয়াল রাখুন। সময় কথা মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।

বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন। শিশুদের সময় দিন।

এর আগে বাবা মায়েদের যদি মোবাইলের প্রতি আসক্তি থাকে তাহলে সেটা বর্জন করুন। শিশুদের ইনডোর, আউটডোর গেমসে উৎসাহিত করুন। তাদের বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থানে ঘুরতে নিয়ে যান। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। শিশুদের নাচ, আঁকা, বই পড়ার দিকে উৎসাহ দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই শিশুদের অনলাইন গেমস থেকে সরিয়ে আনতে হবে। বাবা মায়ের উচিত শিশুরা কী করছে, কাদের সাথে মিশছে, সেদিকে সমানতালে নজর দেওয়া। শিশু-কিশোরদেরকে এই গেমস থেকে সরিয়ে আনাই হোক লক্ষ্য।

https://songeetbd.com/public/frontend/img/post-add/add.jpg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *